ব্রণ নিয়ে যত বিভ্রান্তি

ব্রণ বা অ্যাকনি একটি বিরক্তিকর ও বিব্রতকর সমস্যা। সাধারণত কিশোর-কিশোরীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগে। তখন তাদের অহরহ নানা উপদেশ দেওয়া হয়—এটা করা যাবে না, ওটা খেলে ব্রণ বাড়ে ইত্যাদি। কিন্তু এসব কথা কতটুকু ঠিক?
ব্রণ কেবল কিশোর-কিশোরীর সমস্যা?
যেকোনো বয়সের মানুষই ব্রণে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কিশোর-কিশোরীর দেহে কিছু হরমোনাল পরিবর্তন হয়, যা ব্রণ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে। আবার কিশোরীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে মুখে অনেক ব্রণ হতে পারে।
ভাজাপোড়া খেলে ব্রণ হয়?



মোটামুটি একটা স্বতঃসিদ্ধ ধারণা হলো, ভাজাপোড়া, তেলযুক্ত খাবার, চকলেট ইত্যাদি খেলে ব্রণ হয় বা ব্রণ বাড়ে। তবে গবেষণায় এই তথ্যের পক্ষে তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। আদতে ব্রণের সঙ্গে খাবারদাবারের তেমন একটা সম্পর্ক নেই। তবে কৈশোরে মেয়েদের হঠাৎ মুটিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পলিসিস্টিক ওভারি ও ব্রণের সম্পর্ক আছে বলে ওজন কমানোর জন্য এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
বারবার মুখ ধোয়া ভালো?
অনেকের ধারণা, মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে দিনে বারবার মুখ ধোয়া ব্রণ রোগীর জন্য ভালো। এটিও সঠিক ধারণা নয়। ফেসওয়াশ বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ ধোয়ার প্রভাব মাত্র কয়েক মিনিটই থাকে। তাই বারবার মুখ ধুয়েও কোনো লাভ নেই। তবে দিনে অন্তত দুবার মুখের ত্বক পরিষ্কার করে ধোয়া উচিত।
মানসিক চাপে ব্রণ বাড়ে?
মানসিক চাপ, অতিরিক্ত টেনশন, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি ব্রণ বাড়িয়ে দেয় বলেও একটা ধারণা আছে। কিন্তু এর পক্ষেও তেমন তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।
ব্রণে হাত দেওয়া ঠিক নয়
অনেকে ব্রণ চেপে ভেতরের পুঁজ বের করে আনতে চান বা খুঁটিয়ে উঠিয়ে ফেলতে চান। এটা মোটেই উচিত নয়। এতে ত্বকে স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে।
ব্রণ নিয়ে হতাশা
ব্রণের সমস্যা নিয়ে অনেকেই হতাশায় ভোগে, অনেকে আত্মবিশ্বাস ফেলে হারিয়ে। কিন্তু ব্রণের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে। ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিলে নিশ্চয় সুফল পাওয়া যাবে। উল্টোপাল্টা বনাজি, হোমিওপ্যাথি বা মলম চিকিৎসা না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার আওতায় আসুন।
চর্মরোগ বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল|
source:prothom-alo

0 comments:

Post a Comment